কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এবার পুলিশ পরিচয়ে একদল অস্ত্রধারী ডাকাত একটি বাড়িতে প্রবেশ করে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদেরবাপের পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির মালিক মাওলানা ফয়জুল আলমের মেঝ ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুস্তাহিদ বর্তমানে কুমিল্লা জেলা কারাগারে কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
কারারক্ষী আব্দুল্লাহ আল মুস্তাহিদ জানান, গভীর রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাড়ির দরজায় এসে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয় এবং বাড়িতে আসামি রয়েছে দাবি করে দরজা খুলতে বলে। পরিবারের সদস্যরা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকলেও পুলিশ পরিচয় শুনে কয়েকজন জেগে ওঠেন।
একপর্যায়ে দরজা সামান্য খোলা হলে ডাকাতরা জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে পড়ে। সে সময় বাড়িতে বেড়াতে আসা ফেনী জেলা কারাগারের আরেক কারারক্ষী ওবায়দুল হকও উপস্থিত ছিলেন।
মুস্তাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওবায়দুল হক ডাকাতদের হাতে থাকা অস্ত্র দেখে সন্দেহ করেন, কারণ সেগুলো সরকারি বাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্রের মতো ছিল না। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি বাড়ির নারী সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আগেই ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে।
এরপর ডাকাতরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে তল্লাশি চালায় এবং আসবাবপত্র তছনছ করে। প্রায় ২৫ মিনিট ধরে চলা এ তাণ্ডবের পর তারা চার জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন লুট করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
বাড়ির মালিক মাওলানা ফয়জুল আলম বলেন, তিনজন ডাকাত ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলেও আরও চার থেকে পাঁচজন বাইরে পাহারায় ছিল। তারা পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকা ত্যাগ করে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই চকরিয়া থানার আওতাধীন হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) শওকত হোসেন জানান, ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন চকরিয়ার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় মা ও মেয়েকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় আহত এক স্কুলছাত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে।
Responses